বেইজিংয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে (Summit) চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে থুসিডাইডিস ফাঁদ (Thucydides Trap) ধারণাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্রাহাম অ্যালিসন এই তত্ত্বটিকে আধুনিক ভূরাজনীতিতে জনপ্রিয় (Popularize) করেছেন। এই ধারণার মূল সারমর্ম হলো—যখন কোনো উদীয়মান শক্তি (Emerging power) কোনো বিদ্যমান প্রভাবশালী শক্তির (Dominant power) জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাদের মধ্যে সংঘাত বা যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য (Inevitable) হয়ে পড়ে।
এই আলোচনার প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Historical context): প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিস এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে লিখেছিলেন যে, এথেন্সের উত্থান স্পার্টার মধ্যে যে ভীতি তৈরি করেছিল, তা যুদ্ধকে অবধারিত করে তুলেছিল। বর্তমানে চীনকে এথেন্স এবং যুক্তরাষ্ট্রকে স্পার্টার সাথে তুলনা করা হয়।
যুদ্ধের ঝুঁকি (Risk of war): গ্রাহাম অ্যালিসনের গবেষণা অনুযায়ী, ইতিহাসে এমন ১৬টি ঘটনার মধ্যে ১২টি ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বেধেছিল। তিনি সতর্ক করেছেন যে, উভয় পক্ষ কঠিন ও বেদনাদায়ক (Painful) পদক্ষেপ না নিলে তারা যুদ্ধের মুখোমুখি (Face-off) হতে পারে।
সি চিন পিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি: সি চিন পিং বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ফাঁদ কোনো ঐতিহাসিক অনিবার্যতা (Historical inevitability) নয়। তিনি পারস্পরিক বোঝাপড়া (Mutual understanding) এবং আস্থার (Trust) ওপর ভিত্তি করে সম্পর্ক গড়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বিশ্ব এতটাই বড় যে এখানে উভয় দেশের উন্নয়ন ও যৌথ সমৃদ্ধি (Joint prosperity) সম্ভব।
বর্তমান উত্তেজনা (Current tensions): বাণিজ্য (Trade), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) এবং তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুই পরাশক্তির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা (Rivalry) বাড়ছে। সি সতর্ক করেছেন যে, বড় শক্তিগুলো যদি বারবার কৌশলগত ভুল হিসাব (Strategic miscalculation) করে, তবে তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য ধ্বংসাত্মক (Destructive) পরিস্থিতি তৈরি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও এই তত্ত্ব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টাদের মতে, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরুজ্জীবিত (Revitalize) করছে, যা চীনের জন্য একটি সতর্কবার্তা (Warning signal) হিসেবে কাজ করছে।
সামগ্রিকভাবে, চীনের কূটনীতিকরা মনে করেন যে, জিরো-সাম (Zero-sum) বা একজনের লাভে অন্যের ক্ষতির প্রতিযোগিতার বদলে পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই ফাঁদ এড়িয়ে চলা সম্ভব।
